ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে শেরপুরের সাবেক ও বর্তমানে ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার মো. নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাঁর দেওয়া একটি নিয়োগপত্রকে আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন ও অকার্যকর ঘোষণা করে বাতিল করা হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ১০.০০.০০০০.১৩১.১১.০১০.৯৯-১৪১ নম্বর স্মারকে বলা হয়েছে, নূর নেওয়াজ শেরপুরের জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঝিনাইগাতী উপজেলার ৪ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নে মো. আতিকুর রহমানকে অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেন। মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, ওই নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো আইনগত কর্তৃত্ব ছিল না।
এ কারণে নূর নেওয়াজের দেওয়া নিয়োগপত্রটি ‘নন এস্ট’ (আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন) এবং ‘স্টিল-বর্ন’ (অকার্যকর) হিসেবে উল্লেখ করে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, শেরপুরে জেলা রেজিস্ট্রার থাকাকালে নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নূর নেওয়াজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জানা গেছে, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৪ সালে শেরপুর সহকারী জজ আদালতে ৯৫৮/২৪ নম্বর মামলা করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), শেরপুর। তদন্ত শেষে সিআইডি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। মামলাটি বর্তমানে শেরপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার বাদী কাজী মোহাম্মদ আবু সাইদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নূর নেওয়াজ প্রভাব খাটিয়ে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের ফাইল আটকে রেখেছিলেন। এখন আইন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আদেশ এবং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।