শেরপুর ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তের গারো পাহাড়ের শালবনসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রতিদিনই আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা।এতে মারা যাচ্ছে বনের চারা, গাছ, পাখি ও কীটপতঙ্গ,নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
বন বিভাগ বলছে, দিনে ও রাতের বিভিন্ন সময় এই আগুন দেওয়া হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আহত হচ্ছেন বন কর্মকর্তারাও। রাতের আঁধারে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও জ্বলছে বন। কে বা কারা আগুন দিচ্ছে, জানে না বনবিভাগ। অথচ এই ঘটনা পুরো শুষ্কমৌসুম জুড়েই ঘটে।
স্থানীয়রা বলছেন, বনের ভেতর গরু চরানো রাখাল ও কাঠচোরের অসাধু একটি চক্র নিজেদের সুবিধার্থে এই কাজ করে। এক পাশে আগুন ধরিয়ে অন্য পাশে কাটা হয় গাছ, আগুনে গাছ মরে গেলে সেই গাছ চুরির অভিযোগও রয়েছে। বনবিভাগের নিরাপত্তাকর্মীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত কাউকেই ধরতে পারেননি তারা।
স্থানীয় গান্ধীগাঁও গ্রামের নিপা বেগম বলেন গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ২০ জায়গায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা এই ভাবে চলতে থাকলে, বনের পরিবেশ হুমকির মুখে পতিত হবে। দুধনই গ্রামের বাসিন্দা গোলাপ হোসেন বলেন, গরুর রাখাল ও স্থানীয় অসাধু ব্যাক্তি বনে আগুন লাগিয়ে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, বনে আগুন দেয়ার কারণে হাতির পাশাপাশি বানর, বনমোরগ, বন্য শূকর, অজগর সাপসহ নানা প্রজাতির জীবজন্তুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ ও শেরপুর বনবিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের মধুটিলা, রাংটিয়া ও বালিজুড়ি রেঞ্জসহ জেলায় প্রায় ২৫ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, বিশাল এই বনভূমি রক্ষায় শুধু বনবিভাগ নয়, সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।তাহলে দুবৃত্তদের ধরতে সহজ হবে।