গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ভাদুন দরগাহপাড়া এলাকায় পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, মারধর, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পূবাইল থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোশারফ মন্ডল (৩৯) অভিযোগে বলেন, পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার ভাতিজা ফরহাদ মন্ডল (৩৭), বেলায়েত মন্ডল (৪৫), রাজিব মন্ডল (৩৫) ও ভাতিজার স্ত্রী শোভা (৩২)-এর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সামনে এসে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন।
মোশারফের অভিযোগ, এর প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার চিৎকারে স্ত্রী, ভাবি ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। এ সময় তার স্ত্রীকেও মারধরের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোশারফ আরও দাবি করেন, এর আগেও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন। এমনকি তার গৃহপালিত ছাগলকে মারধর করে আহত করার অভিযোগও করেন তিনি।
অন্যদিকে, মোশারফের ভাতিজার স্ত্রী মাহাবুবা (২৯) পাল্টা অভিযোগে বলেন, তার স্বামী ফরহাদ মন্ডলের পৈত্রিক জমিতে খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে মোশারফ মন্ডল ও রুমি আক্তারের সঙ্গে তাদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে তার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে মোশারফ মন্ডল, রুমি আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ করেন।
মাহাবুবার অভিযোগ, এর প্রতিবাদ করলে রুমি আক্তার তাকে চড়-থাপ্পড় ও ধাক্কাধাক্কি করেন। একপর্যায়ে তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তার ১০ বছর বয়সী ছেলে ও দুই বছর বয়সী মেয়েকেও লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে সন্তানদের নিয়ে তারা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে গেট বন্ধ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা গেট ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন মাহাবুবা। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তবে দুই পক্ষই নিজেদের অভিযোগের পক্ষে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগগুলোর কোনটি সত্য, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধে উভয় পক্ষই পৃথক অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।