আইনঅঙ্গনে এখনো ফ্যাসিজমের কালো থাবা থেকে মুক্ত হয় নি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফ্যাসিস্ট সরকারের দেখিয়ে যাওয়া পথেই হাঁটছে।
আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল ) বিআইইউতে আইন বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত "দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটুকু উন্নতি হয়েছে" শীর্ষক সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত অস্থায়ী সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র সাংবাদিক কামরুল হাসান।( উল্লেখ্য তিনি ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়েছিলেন)
এসময় কামরুল হাসান অভিযোগ করেন দেশের ২৪ বিপ্লবের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল ২০০৯ সালে ফ্রেব্রুয়ারি মাসে ঘটে যাওয়া পরিকল্পিত ভাবে দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য দেশপ্রেমিক সেনাবাহীনির চৌকস ৫৭জন অফিসারকে হত্যা করা ও মোট ৯৬ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কিন্তু জাতি আশা করেছিল কখনো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে বহুল কাঙ্ক্ষিত পিলখানা ট্র্যাজেডির সত্য উন্মোচিত হবে ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে। দুঃখ জনক হলো এটি নিয়ে আইন উপদেষ্টা তালবাহনা করছে।
এছাড়া যুদ্ধপরাধী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়।
সীমান্তে হত্যা ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের আলুর ভর্তা ন্যায়। বর্তমানে এনিয়ে কোন আশার আলো দেখছে না জাতি।
নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড মোঃ ইউনুস অন্তবর্তিকালীন সরকার প্রধান হিসেবে সফল হলেও
আইনঅঙ্গনে যারা রয়েছেন,তারা ক্রমশ উদাসীন হয়ে অদৃশ্য ভাবে পালিয়ে যাওয়া সরকারের দোসরদের রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশের বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক সংগঠন দীর্ঘদিন মাজলুম ছিলেন, এখন তারা জালিম হয়ে জাতির কাঁধে ভর করেছে।তারা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এপর্যন্ত নিজ দলের ৭৫ জন জনশক্তি হত্যা করেছে।
দেশের অধিকাংশ আমলারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের তাঁবেদারি করে বেরাচ্ছে।আইন বিভাগ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এখানে কোন কারো হস্তক্ষেপ বা তবেদারী চলবে না।
তিনি বলেন,একাত্তর টেলিভিশনের মালিক কীভাবে কারানির্যাতিত ও দেশান্তরীত দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ডঃ মাহমুদুর রহমান স্যারের বিরুদ্ধে মামলা করে।অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের দেশে ফিরতে এখনো কিসের বাধা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য ও ডঃ কনক সরোয়ারের দেশে ফিরতে অদৃশ্য বাধা হয়ে কারা দাঁড়িয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, আইন কে নিজ গতিতে চলতে দিন, প্রাচীর হয়ে বাধা দিয়েননা। তাহলে দেখবেন বৈষম্য দূর হবে সাম্য ফিরে আসবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট সালেহ আহমদ, আব্দুর রাজ্জাক শাহাদাত হোসেন ও সুপরিচিত মুখ আইন অঙ্গনের এডভোকেট শিশির মনির ও ডঃ গোলাম রসুল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।