ভূমিকম্পের কারণে আপাতদৃষ্টিতে পুরান ঢাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় দুর্যোগের সময় মানুষকে দ্রুত সরানো কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
গত
২১ নভেম্বর সকালে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র ভূমিকম্পের পর থেকেই রাজধানীবাসী আতঙ্কে দিন পার করছেন। নরসিংদীতে হওয়া ৫.৭ মাত্রার সেদিনের ভূমিকম্প অনুভব করেন দেশের প্রায় ১৪ কোটি মানুষ। ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ মানুষ। রাজধানীর অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু ভবন হেলে পড়েছে। ২২ নভেম্বর সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা। এ অবস্থায় ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ সেই প্রশ্ন অনেকের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
আনসারীর মতে, আপাতদৃষ্টিতে পুরান ঢাকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও, নতুন ঢাকা ও পুরান ঢাকার মধ্যে পার্থক্য একটাই। তা হলো পুরান ঢাকার সরু রাস্তা। রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় দুর্যোগের সময় মানুষকে দ্রুত সরানো কঠিন হতে পারে। তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে পুরনো কিছু ভবন শত বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে। কোনো ভূমিকম্পেও ভেঙে পড়েনি। তাই কাঠামোর মানই বেশি গুরুত্ব পায়।
ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ?
কোন এলাকা কতটুকু নিরাপদ তা বুঝতে হলে শহরের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং শহরের অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন প্রায় একই। বেশিরভাগ অংশ, বিশেষ করে উত্তর দিকের মাটি মধুপুরের লাল মাটি। যেটি বেশ শক্ত। কিন্তু মোঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ পিরিয়ড, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে উত্তর দিকে এবং বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে শহর খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। তখন এই লাল মাটি 'অকুপাইড' হয়ে যায়। এরপর শহর বাড়তে শুরু করে পূর্ব-পশ্চিমে। সেখানে নরম পলিমাটি এবং জলাশয় ছিল যা ভরাট করা হয়েছে।
আখতার জানান, শুধু যদি ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনা করা হয়, তাহলে মধুপুরের লাল মাটির একই গড়নের যেসব এলাকা রয়েছে যেমন রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও ইত্যাদি এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
কিন্তু শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর ঢাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্ভর করছে না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ, কোনটি নয়- এটা বলা মুশকি