রাজধানীর ডেমরায় যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই অটোরিকশা চালকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. ওমর ফারুক (৩৩) নামে এক অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার সময় তাকে রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৪ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার হলি এইড হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওমর ফারুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার মাঝিয়ারা গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ডেমরার সাধুর মাঠ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে হাসপাতালের সামনে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানো নিয়ে ওমর ফারুকের সঙ্গে অপর চালক সোহাগের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ গাড়ি থেকে নেমে লোহার পাইপ ও রড দিয়ে ওমর ফারুককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় ওমর ফারুককে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এ সময় তাকে লাথিও মারা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে থাকা আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা যুবক ঘটনাস্থলে যোগ দিয়ে ওমর ফারুককে লাঞ্ছিত করে এবং তার কাছে থাকা রিকশা ভাড়ার নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় ওমর ফারুকের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এমনকি তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের সামনেই হামলাকারীরা গাড়িতে থাকা এক বৃদ্ধা নারীর গায়েও হাত তোলে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহতের চিৎকার শুনে আশপাশের পথচারী ও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ওমর ফারুককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুগদা জেনারেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহত ও তার স্ত্রীর মেডিকেল রিপোর্টও রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত ওমর ফারুক বাদী হয়ে চালক সোহাগসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ডেমরা থানার ডিউটি অফিসার জানান, “যাত্রী উঠানো নিয়ে চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”