সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন অটোরিকশা চালকরা। এতে মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে রাস্তায় এলে পুলিশ ধরপাকড় পূর্বে ও করতো কিন্তু কিছু আর্থিক লেনদেন করলে তারা অটোরিকশা চালানোর অনুমতি দিত। কিন্তু আজকে তাদের অনেকের গাড়ি আটকে রেখেছে পুলিশ। তাদের দাবি, কোনো প্রকার শর্ত বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই রাস্তায় তাদের অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালাতে দিতে হবে। অন্যাথায় সরকার তাদের কর্মের ব্যাবস্থা করে দিবে। দাবি না মানা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান করার ঘোষণা দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সমঝোতার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে অটোরিকশা চালকদের উপর লাঠিচার্জ করতে দেখা যায় পুলিশকে।
ঢাকা ১৬ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ঘটনাস্থলে আসেন আনুমানিক দুপুর ২টা ১৮ মিনিটের দিকে।তিনি শ্রমিকদের সরিয়ে গাড়ি চলাচলের পথ করে দিতে চাইলেও অটোরিকশা চালকরা তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। জলকামান নিয়ে পুলিশ ফের শ্রমিকদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়। এরপর থেকে যান চলাচল শুরু হয়। ঢাকা ১৬ আসনের সাংসদ বলেন, হাইকোর্ট যেহেতু নির্দেশ দিয়েছে আমাদের সেই নির্দেশ মানতে হবে। পাশাপাশি মানবিক দিকটিও আমাদের দেখতে হবে। এ সময় তিনি অটোরিকশাচালকদের কাছে দুই দিনের সময় চান।
ডিএমপি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার জসিম উদ্দিন বলেন, অটোরিকশাচালকরা তাদের দাবি নিয়ে সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন। একপর্যায়ে আমরা রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য তাদের ধাওয়া করে সরিয়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা তাদের অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করেছি। তারা তাদের কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে অবস্থান করলো। আজকে আমরা ধৈর্য ধরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে হাইকোর্টের নির্দেশনা আমাদের সবাইকে পালন করতে হবে। এ জন্য একটু সময় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য এসে উনিও বোঝালেন। বোঝানের পরও তারা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে, যা আপনাদের সাংবাদিকদের গায়ে, পুলিশের গায়ে লেগেছে। তারপর সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, এটা অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন। এখানে কেউ ইন্ধন দিয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আর যারা ভাঙচুর করেছেন ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।