প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংক্রমণ মোকাবিলায় আগের পদক্ষেপের পাশাপাশি পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ফিজির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে নতুন করে ২ হাজার ১৬টি এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা দেশটির নজরদারি ব্যবস্থায় এক বছরে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। একই সময়ে দেশটিতে এইচআইভি শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার কার্যক্রমও বেড়েছে।
সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এই অনুপাত ছিল প্রায় ১৬৭ জনে একজন। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডস জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফিজিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে। সংস্থাটি জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।
ফিজি সরকার জানিয়েছে, এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি PrEP-এর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা হবে। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ক্ষতি কমানোর কর্মসূচি এবং সুই-সিরিঞ্জ ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে এইচআইভি নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য কমাতে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। যথাযথ চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে এইচআইভি নিয়ে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলেও ফিজির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।