ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা সারা দেশে নিরলসভাবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষা বিস্তারে ও করোনা কালীন সময়ে মানবিক সেবায় অবদান রেখেছে, যা প্রশংসনীয়। দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে। মাদরাসা শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা দেয়া না হলে সমাজ পিছিয়ে যাবে এবং আদর্শ নাগরিক তৈরির কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে 'বাংলাদেশ দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক, নারী নির্যাতনসহ সামাজিক সমস্যা সমাধানে দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সহায়ক কর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় দেশের ৬৪ জেলা থেকে আগত শিক্ষক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদারের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি নাজমুল হুদা কাশেমী এবং আইসিটি সম্পাদক মাওলানা রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সিনিয়র সদস্য মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, ইফার বোর্ড অব গভর্নরস সদস্য মুফতি আজহারুল ইসলাম ও মুফতি শরীফ উল্লাহ। আরো বক্তব্য রাখেন, ইফা সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, ইফা সমন্বয় বিভাগের পরিচালক জনাব মো. মহিউদ্দিন, মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প পরিচালক এস, এম, তরিকুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম এ বারি।
এছাড়াও শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী জয়নুল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুনাওয়ার হোসাইন, সহসভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের নোমানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম কাদেরী, সিলেট বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা ফয়জুল হাসান, রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা মাকসুদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা ইয়াসিন আলী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আবু ইউসুফ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আল আমিন, মুফতি আহমদ কবির, দপ্তর সম্পাদক মুফতি জসিম উদ্দিন সহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী জয়নুল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুনাওয়ার হুসাইন তাদের বক্তব্যে কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবি সমূহ হচ্ছে-
১.দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা। ২. দারুল আরকাম প্রকল্পের মাদ্রাসা সমূহকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক, সহায়ক কর্মী নিয়োগ প্রদান করা। ৩. শিক্ষক, শিক্ষিকা ও সহায়ক কর্মীদের বেতন-ভাতা মাসিক ভাবে পরিশোধ করা। ৪. প্রতিটি মাদ্রাসার জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা। ৫. নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহায়ক কর্মীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনবলের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। ৬. করোনা কালীন সময়ে শিক্ষকদের বিশেষ অবদান রাখার জন্য হলেও শিক্ষক শিক্ষিকাদের ২০২০ খ্রি. সালের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা। এবং ৭. কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চলতি প্রকল্পে নিয়োগ পুনর্বহালের ক্ষেত্রে তৃতীয় বিভাগ সনদধারীদের সুযোগ প্রদান করা।
উল্লেখ্য যে, অনুষ্ঠানে ২০২৬ সনে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া দারুল আরকাম মাদ্রাসার সাবেক চারজন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চারজন কর্মচারীসহ মৃতের পরিবার, আহত ও অসুস্থ জনিত শিক্ষক সহায়ক কর্মী সহ মোট ১৩ জনকে সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা চেক হস্তান্তর করা হয়।
দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মাওলানা মো. আনিসুজ্জামান সিকদার এর হৃদয়গ্রাহী মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।