প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৫টায় ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলটি কলাভবন, মলচত্বর, ভিসিচত্বর, টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারের দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করতে থাকে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোটার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা 'কোটা প্রথা কোটা প্রথা-মানি না মানব না', 'কোটা প্রথা বাতিল করো-করতে হবে', 'মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়-বৈষম্যের ঠাই নাই', সহ কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোটা প্রথা কখনোই এই জাতির কল্যান বয়ে আনবে না। কোটা প্রথার মাধ্যমে মুলত এই দেশের মেধাবীদের সাথে এক ধরনের উপহাস করা হচ্ছে। লাখ লাখ বেকারের দেশে অযোগ্যদের অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমে আরও বেকার বৃদ্ধির একটি কৌশল তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এমন সিদ্ধান্ত কখনোই মেনে নেবে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলেন আমরা মেধার সাক্ষর রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। অন্তত সরকারি চাকরি তে কোটা পদ্ধতি সরিয়ে নিলে আমাদের মত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের অনেকটা কষ্ট লাঘব হতো।
এসময় ইংরেজি বিভাগের হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন
, স্বাধীনতা, সাম্যের যে স্পিরিট ছিল, সেই স্পিরিটের বাইরে গিয়ে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করে কোটার পুনর্বহাল সারা বাংলার শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না। কোটা পুনর্বহাল বাতিল করার জন্য আমাদের আবার রাস্তার মধ্যে নামতে হবে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, সেটা ছিল বৈষম্য নিরুপন। অত্যন্ত দুঃখজনক, যারা কোটার জন্যে আন্দোলন করছে তারা নিজদেরকে কোটাধারী মেধাবী দাবি করছে।
প্রসঙ্গত, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বুধবার (৫ জুন) বিচারপতিকে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।