ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র নির্বাচন (ডাকসু) সামনে রেখে পুরো দেশেই যেন একটা নির্বাচনী হওয়া বইছে। প্রতিদিন খবরের কাগজের প্রধান শিরোনাম হচ্ছে এই নির্বাচন। সামাজিকমাধ্যমের সুবাদে ডাকসু প্রার্থীদের খবরাখবর ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশের প্রান্তিক কোনো চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রবাসীদের কাছেও।
কিন্তু রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার বাইরে সামাজিকমাধ্যমে অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। সাইবার জগতে ক্রমাগত হেনস্তা, অপতথ্য ও গুজবের শিকার হচ্ছেন তারা। এতে প্রধান লক্ষ্য আলোচিত নারী প্রার্থীরা। প্রার্থীদের লক্ষ্য করে চলছে ট্যাগিং, বডি শেমিং, বুলিং, গুজব, কটূক্তি, বিদ্বেষমূলক প্রচার, প্রোপাগান্ডা ছড়ানোসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ।
এছাড়াও সাইবার হামলার মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সংগঠনের পেইজ, বাটবাহিনীর উপদ্রবও চলছে ভয়াবহভাবে।
প্রধান লক্ষ্য নারী প্রার্থীরা
ডাকসু নির্বাচনে এবার নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ২০১৯ সালের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এমনকি এবারের ঘোষিত নয়টি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটিতেই নেতৃত্ব দেবেন নারী। ভিপি পদে লড়ছেন দুইজন নারী, জিএস পদে একজন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন আরও দুজন নারী।
এছাড়াও বিভিন্ন প্যানেলের সম্পাদক ও সদস্য পদে রয়েছেন একাধিক নারী প্রার্থী, ইতোমধ্যে তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গেছেন। তবে, নারী প্রার্থীদের লক্ষ্য করে বডি শেমিং, বুলিংয়ের অহরহ ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডাকসু নির্বাচনে সবার আগে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন উমামা ফাতেমা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক এই মুখপাত্রের বিরুদ্ধে এরপর থেকেই গুজব ও অপতথ্যের হিড়িক পড়ে। তিনি কবি সুফিয়া কামাল হলে বাম রাজনীতি বাদে সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ চান বলে গুজব ছড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজের বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উমামা।
তিনি বলেন, “প্রভোস্ট স্যারের কাছে জমা দেওয়া বিবৃতিতে আমরা সুফিয়া কামাল হলে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে লিখে দিয়েছি। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ (বাগছাস) ইত্যাদি, মানে যাবতীয় বাম, ডান, ইসলামিক সব দলের রাজনীতি হলে বন্ধ থাকবে।”
এছাড়াও, উমামার শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, তেমনই মন্তব্যের ঘরেও কটূক্তি করা হচ্ছে।
এদিকে, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে এবার ডাকসু নির্বাচন করবেন চার নারী। প্যানেল ঘোষণার পর থেকেই শিবিরের নারী প্রার্থীরা সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভিপি পদপ্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, “এবারের ডাকসুতে রাজনৈতিক বলয়ের বাইরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, রাজনীতি কিংবা রাজনীতির বাইরে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনও গড়ে ওঠেনি। অব্যাহত কটূক্তি, প্রোপাগান্ডা, বিদ্বেষমূলক প্রচার, সাইবার বুলিং ও ট্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা।”
সাদিক কায়েম বলেন, “ফাতিমা তাসনিম জুমা, সাবিকুন্নাহার তামান্না, উম্মে