গ্রাহক ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চাপের অভিযোগ তুলে প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর রংপুর মহানগরীতে অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টায় রংপুর জেলা জজ আদালত চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিবর্তে সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগ দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। গ্রাহকদের প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃপক্ষ রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভোগান্তি বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের অভিযোগ, প্রচলিত ডিজিটাল মিটারের তুলনায় প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ আর্থিক চাপে পড়ছেন। বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে নেওয়া ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ থাকা প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা হয়নি। তাঁর দাবি, এ প্রকল্পের নামে বিগত সরকারের সময় শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আর্থিক নথিপত্রের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির নামে প্রিপেইড মিটার চালু করে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটার বাতিল ও গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং আপত্তি উপেক্ষা করে মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিপেইড মিটার বাতিল, আগের ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধের দাবিতে চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত চার দফা দাবি হলো—
১. গণবিরোধী প্রিপেইড মিটার বাতিল করতে হবে।
২. পূর্বের ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে।
৩. বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।
৪. বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে রংপুর মহানগরীর সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, এবিএম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু, মাহফুজ হোসেন, মেহেদী হাসান তরুণ, মাহবুব আলম ও সানজিদা আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।