লক্ষ্মীপুর জেলার, রায়পুর উপজেলার
পশ্চিমাঞ্চলবাসীর নিকট প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান সরদার একটি নাম নয়,এটি একটি গল্প,একটি অধ্যায়, মফস্বলের রাজনীতিবিদদের প্রেরনা,ছন্নছাড়া তৃনমূলের আশা, সমাজের অবহেলিত মানুষের বটবৃক্ষ,অনাথ শিশুদের বাসস্থানের ঠিকানা, হাজারো মানুষের স্বপ্ন।
তৎকালীন নোয়াখালী জেলা বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার হাজী তোরাব আলী সরদার ও দিলজান বিবির দম্পতির ঘরে ১৯৩০ সালে কোন এক সকাল- সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণে জন্ম নেন চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান সরদার।
শৈশবে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পরিবার ও গৃহ শিক্ষকের নিকট থেকে। পরবর্তীতে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষ করে বাবার কৃষি- সম্পদ, ব্যবসা দেখাশোনা করেন।
এই সময়ে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাড়িয়ে নিজেকে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
পরবর্তীতে জড়িয়ে যান মফস্বলের রাজনীতীতে।এখান থেকে নিজেকে তুলে ধরেন এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তি হিসেবে। মফিজুর রহমান ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠীত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একনিষ্ঠ নিবেদিত কর্মী। তিনি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ও থানা কমিটির সদস্য ছিলেন।
কর্ম ও রাজনৈতিক জীবনে যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানে স্বর্ণ ফলিয়েছেন। নেতা হিসেবে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন পুরো জেলায়।
তার নিমন্ত্রণে একাধিক বার চর আবাবিল ইউনিয়নে জনসমাবেশে করেন দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সফরে এসেছিলেন বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তার স্ত্রী হাসনা মওদুদ।
বর্তমান ১ নং উত্তর আবাবিল ইউনিয়ন ও ৯ নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন একত্রে ছিল বৃহত্তম ১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন।
মফিজুর রহমান ১ নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচন করেন ১৯৭২ সালের দিকে।
নির্বাচনে ইউপি সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ইউপি সদস্য হিসেবে দীর্ঘ দুই বছর দায়িত্ব পালন করা সময়কালে তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত চাঁন মিয়া মুন্সী পবিত্র হজ্বের উদ্দেশ্য সৌদি আরবে যান।
সততা, নিষ্ঠা,দিয়ীত্বশীলতা, বিচক্ষণতা,যোগ্যতা, দূরদর্শিতা বিবেচনা করে ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করেন। তৎকালীন চেয়ারম্যান হজ্ব থেকে ফিরে তার দায়িত্বশীলতা মুগ্ধ হয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।এখান থেকে তার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।
১৯৭৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করে বাঁধভাঙা জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন পরিচয়ে আস্বনীত হন চেয়ারম্যান হিসেবে।
চেয়ারম্যান হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক অবদান।সড়ক পুনঃনির্মাণ, সালিশ বানিজ্য বন্ধ,ধান চাষে সেচ প্রকল্প প্রসার,অভ্যন্তরীণ বিবাদ- কোন্দল নিরসন, অসহায়দের সাহয্য করা, অক্ষম বাবা বিবাহ যোগ্য মেয়েদের নিজ অর্থায়নে বিয়ের ব্যবস্থা,দখলদারিত্ব প্রতিরোধ, দুর্বলদের আঘাত না করা, নিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রবীণদের পুর্নবাসন, সংখ্যা লঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সদা জাগ্রত।
এছাড়া দরিদ্র বাবার মেধাবী সম্ভাবনাময় সন্তানদের পড়াশোনা ব্যবস্থা করা নিজ অর্থায়নে। তার মধ্যে একজন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক ডঃ শাহজালাল।