যানজট মোটামুটি সব দেশেই কম বেশি দেখতে পাওয়া যায়। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যখন কোন উৎসব হয় ঐসময় দেশগুলোর রাজধানীতে যানজটের পরিমাণটা একটু বেশি থাকে কিন্তু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চিত্রটা সম্পূর্ন আলাদা, সারাবছর ঢাকাতে যানজট লেগেই থাকে। কোন কিছুতেই যেন পিছু ছাড়তে চায়না যানজট নামের এই বন্ধুটা, শুধুমাত্র যখন বাংলাদেশে বড় কোন উৎসব হয় ঐসময় ছাড়া। এরকারণটা হচ্ছে ঢাকার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে থাকে, জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে অস্থায়ীভাবে বসবাস করার কারণে যেকোন বড় উৎসবে রাজধানীর মানুষ গ্রামে চলে যায়, যার করাণে ঢাকাতে ঐ সময় যানজট বলতে থাকেই না বিশেষ কোন স্থান ছাড়া তাও আবার অল্প সময়ের জন্য। এছাড়া বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শহরে আপনি কখনো যানজট শূন্য দেখতে পাবেননা। এ শহরে আপনি যদি কিছুটা সময় ব্যয় করেন, ‘যানজট’ শব্দটিকে নতুনভাবে দেখার কিছু নেই । তবে যারা বিদেশ থেকে আসেন তাদের কথা আলাদা। ঢাকায় রাস্তার যানজট সীমারেখার একদম বাইরে অবস্থান করছে । এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এমন ব্যাপক ও স্থায়ী যে, এটা এ শহরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে গিয়েছে ।যে কোন শিল্পীর আঁকা ক্যানভাসে রং তুলিতে ঝড়, আবহাওয়া, শহরের যানজট মিলে মিশে একাকার হয়ে থাকে ।
২০১৬ সালে বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহর নিয়ে এক জরিপে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক প্রতিবেদনে ১৪০টি শহরের মধ্যে ঢাকার স্থান মিলেছে ১৩৭তম। ঢাকা শুধু পেছনে ফেলতে পেরেছে নাইজেরিয়ার বৃহত্তম শহর লাগোস, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ককে। ঢাকার অবকাঠামোকে যেকোনো শহরের চেয়ে খারাপ হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছিল জরিপে। তৎকালিন বিএনপি সরকার থাকাকালীন ঢাকার শহরকে মেগাসিটি ঘোষণা করার পর হুরহুর করে বাড়তে থাকে বড় বড় বিল্ডিং এবং গ্রামের মানুষ শহর মুখি হওয়ায় যানজটের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে। উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য মেগাসিটির মতো ঢাকাও চলছে দ্রুত নগরায়ণ ও একটা আবদ্ধ শহরের পথে। এ শহরে গড়ে উঠছে রিয়েল এস্টেট বাজার, বাড়ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপস্থিতি। প্রসার ঘটছে জাঁকালো সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনযাত্রার। আর এসবে ঢাকা পড়ছে লাগামহীন দুর্দশার বিষয়: দারিদ্র্য, দূষণ, ব্যাধি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণ, উগ্র সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা।
যানজট ঢাকাকে একুশ শতকের অকার্যকর নগরায়ণের সেরা উদাহরণে পরিণত করে শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের কাছে এ শহরের সুনাম নষ্ট করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ভগ্ন শহর হিসেবেও ঢাকাকে তুলে ধরেছে যানজট। ঢাকাকে এটা পরিণত করেছে এক অদ্ভুত শহরে; যা একই সঙ্গে খ্যাপাটে ও নিশ্চল। বদলে দিয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখের বেশি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ছন্দকেও।এ শহর যেন এক মহাজাগতিক
দুর্বিপাকের মতো পরে আছে ।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এরপর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার যাত্রা শুরু। বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশকে ডিজিটালাইজ করতে একটা টিম গঠন করা হয় যার প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন। বিশেষজ্ঞরা বহু পর্যালোচনা করে তাদের অভিমত ব্যাক্ত করে বলেন, দেশের উন্নতি করতে হলে সর্বপ্রথম যানজট নিরসনের প্রকল্প হাতে নিতে হবে, করতে হবে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার যানজট নিরসনে বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ফ্লাইওভার ও মেট্রোরেল নির্মাণ। বিশেষজ্ঞরা এসময় প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে প্রথমটির ফল পেতে মানে ফ্লাইওভারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন বছর আর দ্বিতীয়টির মানে মেট্রো রেলের ফল পেতে সময় লাগবে পাঁচ থেকে সাত বছর । দুটোই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাজ। মেট্রোরেল যানজট সমস্যার অনেকটা সমাধান করতে পারবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা । কারণ, মেট্রোরেল একসঙ্গে কয়েক হাজার যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে সক্ষম । কিন্তু ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে খুব একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন । ফ্লাইওভার যেমন অনেক গাড়িকে রাস্তা থেকে ওপরে নিয়ে যাবে, তেমনি প্রতিবছর আরও হাজার হাজার নতুন গাড়ি রাস্তায় নামবে। গাড়ি কেনার কোন নিয়মনীতি নেই বাংলাদেশে, অর্থ থাকলেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যবহারের জন্য একটি করে গাড়ি কিনে থাকে ঢাকায় বসবাসরত বাংলাদেশের নাগরিক। তাই যানজট নিরসনের জন্য মেট্রো রেলের কোন বিকল্প নেই ।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার যানজট নিরসন ও নগরবাসীর যাতায়াত আরামদায়ক, দ্রুততর ও নির্বিঘ্ন করতে ২০১২ সালে গৃহীত হয় মেট্রোরেল প্রকল্প। এ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত, ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। অর্থাৎ এ এলাকায় বসবাসকারী লাখো নগরবাসী মেট্রোরেল ব্যবহার করে গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবেন দ্রুত। এ প্রকল্পে ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে।
২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তথা মেট্রো রেল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য এমআরটি-৬ নামক ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ পথকে নির্ধারন করা হয়। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে জাইকা দেবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু হলে দু'দিক থেকে ঘণ্টায় ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে বলে প্রথমদিকে ধারণা করা হয় । এমআরটি-৬ এর চূড়ান্ত রুট অ্যালাইনমেন্ট হলো- উত্তরা তৃতীয় ধাপ-পল্লবী-রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে (চন্দ্রিমা উদ্যান-সংসদ ভবন) খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট-সোনারগাঁও হোটেল-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এ রুটের ১৬টি স্টেশন হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, মতিঝিল ও কমলাপুর। ট্রেন চালানোর জন্য ঘণ্টায় দরকার হবে ১৩.৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যা নেওয়া হবে জাতীয় গ্রিড থেকে। এর জন্য উত্তরা, পল্লবী, তালতলা, সোনারগাঁ ও বাংলা একাডেমি এলাকায় পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থাকবে।
২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি-৬ প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে শুরু হয় ঢাকা মেট্রোর নির্মাণকাজের সূচনা। এমআরটি-৬ এর স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০১৭ সালের ২ আগস্ট। এদিন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণ শুরু হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, আগারপগাও থেকে মতিঝিল অংশের স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণ শুরু হয়। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর এমআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ নামক লাইন দু'টির নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে। এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকার দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে। এমআরটি-১ প্রকল্পে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার হবে পাতাল পথে এবং কুড়িল থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে। নতুন বাজার থেকে কুড়িল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রানজিশন লাইনসহ ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এই মেট্রোরেলের ১২টি স্টেশন থাকবে মাটির নিচে এবং ৭টি থাকবে উড়াল সেতুর ওপর।
এমআরটি-৫ নির্মাণ প্রকল্পে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার মধ্যে ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা দেবে জাপান আর বাকি ১২ হাজার ১২১ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের মোট ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার হবে পাতাল পথে আর বাকি সাড়ে ৬ কিলোমিটার হবে উড়াল পথে। এ রুটে মোট ১৪টি স্টেশন হবে, যার মধ্যে ৯টি হবে পাতাল আর ৫টি হবে উড়ালপথে।
ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রথমবারের মত যুক্ত হয়েছে মেট্রোরেল ব্যবস্থা। চলতি বছর অর্থাৎ, ২০২১ সাল নাগাদ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে ধারনা করা হয়ে থাকে । প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ হবার পর এটি ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
জাইকার সঙ্গে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কার্যত শুরু হয়েছিল বহুল আলোচিত মেট্রোরেল স্থাপনের কার্যক্রম। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকায় এই প্রকল্পের কাজ করা সম্ভব হবে কিন্ত পরক্ষণে এ প্রকল্পের কাজের পরিধি আরো বাড়লে বাজেট আরো বেড়ে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মান প্রকল্পে ।
"পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত ডিজাইন ও পরিকল্পনার কাজটি করেছিল ।
বলা হচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে মেট্রোরেলের মত গণপরিবহনই হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা।
"মেট্রোরেল প্রতি ঘন্টায় ৬০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।"
মেট্রো রেলপথ উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত স্থাপন করা হয়। তবে, শুরুতে থাকা ডিজাইনে রুটটি বিজয় সরনি হয়ে মতিঝিল যাবার কথা ছিল। পরে, বিমান বাহিনীর আপত্তির মুখে তা পরিবর্তন করা হয়। নতুন ডিজাইনে তা সংসদ ভবন সংলগ্ন ঘেঁষে খামারবাড়ি হয়ে করা হয় । যদি-ও এতে আপত্তি তুলেছিলেন ঢাকার পরিবেশবিদ ও স্থপতিদের একটি অংশ।
স্থপতি ইকবাল হাবিব মনে করেছিলেন , এতে সংসদ ভবনের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা দুটোই হুমকির মুখে পড়বে।যদি এই রুটটি পরিবর্তন করা না হয়, তবে দেশের সচেতন জনগন ও পরিকল্পনাবিদরা সেটি মানবেন না। বরং, যথাসময়ে চালু হলে মেট্রোরেল দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
২০২১ সালে এ পর্যন্ত চারটি স্টেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এই চারটি স্টেশনের মধ্যেই রেলটি প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক চলাচল করে । মূল ডিপো মাটিতে থাকলেও সম্পূর্ণ রেলপথটি হবে উড়াল। এর মধ্যে মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে।
উত্তরা ডিপো থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য ২০. ১ কিলোমিটার। রেলপথটি পুরোপুরি বিদ্যুচ্চালিত । বাংলাদেশে এই প্রথম বিদ্যুচ্চালিত কোন রেলপথ চালু হতে যাচ্ছে।মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের এ যাবৎ সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পের মধ্যে একটি । এটি চালু হলে ঢাকার প্রবল যানজট সমস্যার অনেকাংশে সমাধান হবে সংশিস্নষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করে থাকেন ।
এই বছর মানে ২০২১ এর মে মাসে মেট্রো রেল প্রথমবার জাপান থেকে আনা রেল ইঞ্জিন চালিয়ে পরিক্ষা করে দেখা হয়। তবে ২৯ আগষ্ট ২০২১ রবিবার থেকে উড়াল রেল সড়কে মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করা হয়েছে। ঢাকার উত্তরা নর্থ স্টেশন থেকে পল্লবী পর্যন্ত আপাতত এই রেলের চারটি বগি চলাচল শুরু করেছে। ছয়মাস এই পরীক্ষা চলমান থাকবে।
২০ কিলোমিটার সড়কের অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে মেট্রোরেলের। ঘন্টায় যদিও মেট্রোরেলের ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলার ক্ষমতা থাকবে, তবে আপাতত পারফর্মেন্স টেস্টের জন্য পাঁচ কিলোমিটার গতিতে রেলটি চলানো হবে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়। কাজ সম্পূর্ণ হলে পরে ধিরে ধিরে গতি বাড়ানো হবে এবং সর্বশেষ ২৫ কিলোমিটার গতিতে রেলটি চালিয়ে দেখা হবে।
আপাতত জাপানি চালকরা এই রেল চালনা করবেন। যখন জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (কাওয়াসাকি-তিমসুবিশি কনসোর্টিয়াম) রেলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করবেন, তখন থেকে বাংলাদেশি চালকরা এগুলোর দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এখন চালকদের প্রশিক্ষণের কার্যক্রম চলছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন পরবর্তী ধাপে হবে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট, মেট্রোরেল চলাচলের ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ১৯টি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ফলে বাণিজ্যিকভাবে পুরোপুরি চালু করার আগে এই ১৯টি ধাপ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করে দেখা হবে।
'ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট' করে দেখা হবে সব স্টেশনে ঠিক মতো থামছে কিনা, বৈদ্যুতিক সংকেত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করছে কিনা, এ বিষয়গুলো যাচাই করে দেখা হবে।সেই সময় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত টেস্ট করা পরিকল্পনা আছে । সেই ধাপটিও ছয়মাস চালানো হবে। এসব পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর রেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত বলে ধরে নেয়া হবে। জাপান থেকে কিনে আনা মেট্রো রেলের বগিগুলো, চলাচলের সময় ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রতি সেটে ৬টি করে বগি থাকবে।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২৯ আগষ্ট রবিবার মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচল উদ্বোধন করার সময় জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার মেট্রোরেল উদ্বোধন করতে চায়।
''আগামী বছর জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে, এরপর কর্ণফুলী সেতুর উদ্বোধন এবং বছর শেষে ইনশাআল্লাহ শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প মেট্রোরেল তিনি নিজেই উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সরক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চৌধুরী । তিনি আরো বলেন, মেট্রো রেল চালু হলে ঢাকার প্রবল যানজট সমস্যার অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।
এখন পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার উড়াল সড়কের প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার নির্মিত হয়েছে। এ পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের ৬৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
মেট্রোরেল মূলত পল্লবী হয় রোকেয়া সরণি ধরে এগুবে। শাহবাগ, টিএসসি হয়ে চলে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এর মাঝে ঢাকার ব্যস্ত ফার্মগেট সহ মেট্রোরেল থামবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্টেশনে।
মেট্রোরেলে ২৪ টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী আনা নেয়া করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা।
দুই ধাপের পরীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রেল চালু করার আগে, মেট্রোরেলের যাত্রী ভাড়া, কোন স্টেশনে কতক্ষণ থামবে, কত যাত্রী নিয়ে কী গতিতে চলাচল করবে এসব এখনো নির্ধারণ করা হবে ।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের রূপ। আওয়ামী লীগ সরকারের কল্যাণে দেশে সংঘটিত হয়েছে আমূল পরিবর্তন। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে ডিজিটালাইজেশন, সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে । বিগত দশ বছরে দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। যার ফলাফল, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ এবং জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকার সহয়তা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরালস প্রচেষ্টায় মেট্রোরেলের প্রকল্প পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। "মেট্রো রেল " এটা বাংলাদেশের জন্য এখন আর কোন স্বপ্ন নয়, " বাস্তব.......!