ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল—এমন তথ্য উঠে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘আক্রমণ না করতে’ সরাসরি সতর্ক করেছেন।
মূলত পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এমন সতর্কবার্তা সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন, “এখন ইরানে হামলা করা সঠিক হবে না, কারণ আমরা একটি সমাধানের খুব কাছাকাছি রয়েছি।” তিনি চান, তেহরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তির জন্য তাঁর প্রশাসন আরও সময় পাক।
আল জাজিরা আরও জানায়, ওমান ও ইতালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এখন নতুন একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে দুই ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের আটকে রাখা অর্থ ছেড়ে দেয় এবং বেসামরিক ইউরেনিয়াম পরিশোধনের অধিকার স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ইরান এক বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে পারে।
তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেন, আলোচনার ফল এখনও অনিশ্চিত হলেও এটি চলমান থাকা ইতিবাচক দিক।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার কর্মসূচিতে সীমা আরোপ করেছিল। বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে সরে আসেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান পুরোপুরি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক। কিন্তু ইরান বলছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে, আর এই অধিকার তারা ছাড়বে না।
জেএইচ/ইডি