নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় জেন জি’র বিক্ষোভের মুখে সরকার পতনের পর নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। ভবিষ্যতে ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর গণআন্দোলন’ ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। ১৯৭৪ সালের পর ভারতের সব আন্দোলনের ইতিহাস, কারণ ও আর্থিক দিক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমালোচকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশে তরুণদের বিক্ষোভে পতন হয়েছে সরকারের, সেই আতঙ্কেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি।
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ আর নেপালে তরুণ প্রজন্মের গণবিক্ষোভে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সরকার। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকারও। প্রতিবেশী দেশগুলোর এই অস্থিরতায় আগেভাগেই সচেতন হওয়ার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি সরকার।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, গণবিক্ষোভ ঠেকাতে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। গত জুলাইয়ে দিল্লিতে গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা কনফারেন্সে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের পর দেশে যত বড় আন্দোলন হয়েছে তার কারণ, অর্থায়ন আর ফলাফল খুঁজে দেখতে হবে।
দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যুরো-বিপিআরঅ্যান্ডডিকে।
এরইমধ্যে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন। তারা রাজ্য পুলিশের সিআইডি রিপোর্ট আর পুরনো মামলার নথি ঘেঁটে আন্দোলনের কারণ বের করার নির্দেশ দিয়েছে।
কারা আন্দোলনের পেছনে ছিল, অর্থ কোথা থেকে এসেছে, সেই তথ্য দিয়েই তৈরি হবে ভবিষ্যতের ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ বা একটি মানসম্মত সুষ্ঠু প্রক্রিয়া।
প্রতিটি আন্দোলনে অর্থের উৎস খুঁজতে বিভিন্ন সরকারি আর্থিক তদন্ত সংস্থাকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সমাবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পদদলন ঠেকানো এবং পাঞ্জাবে খালিস্তানি উগ্রবাদ দমনে নতুন কৌশল নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এসব কাজে কেন্দ্রীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ এবং এনসিবিকে মাঠে নামানো হবে বলে জানান অমিত শাহ।
ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, পাঞ্জাব নিয়ে তৈরি হবে আলাদা অভিজ্ঞ টিম। এমনকি যারা জেল থেকে নেটওয়ার্ক চালায়, তাদের অন্য জেলে পাঠানোর কৌশলও নেবে জাতীয় তদন্ত সংস্থা।