মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) এক পোস্টে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, "বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আন্তরিক অভিনন্দন। মালদ্বীপ তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে।"
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে বিশ্বব্যাপী সম্মানিত। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার ক্ষুদ্রঋণ মডেল বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রেখেছে। ২০০৬ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ড. ইউনূস বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৩৩টি দেশের ১৩৬টি সম্মাননা, ২৪টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ৬১টি সম্মানসূচক ডিগ্রি, এবং ১০টি দেশের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার, ইউনাইটেড স্টেটস প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং ইউনাইটেড স্টেটস কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল লাভ করা বিশ্বের মাত্র সাতজন ব্যক্তির একজন।
ড. ইউনূস দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম শুরু করেন ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের সময়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ছোট পরিমাণ ঋণ দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের ধারণাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন। বর্তমানে, তার মডেলটি ৪০টিরও বেশি দেশে ১৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান দ্বারা অনুসরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, ৮০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে 'ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তার চিন্তা, কাজ ও জীবনাদর্শ নিয়ে গবেষণা করা হয়।
প্রতিবছর ২৮ জুন তার জন্মদিন বিশ্বব্যাপী 'সামাজিক ব্যবসা দিবস' হিসেবে পালিত হয়, যা সামাজিক ব্যবসার ধারণা প্রচার এবং উদযাপন করার একটি দিন হিসেবে স্বীকৃত। গত কয়েক দশকে, ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকসহ আরও ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।