টানা দুই বছরে নিরস ভঙ্গিতেই1 কেটেছে দেশের মানুষের চারটি ঈদ। করোনার কারণে স্থবির জনজীবনে এবার এসেছে স্বতঃস্ফূর্ততা। আর তাই জল স্থলপথের সঙ্গে এবার নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামবে আকাশপথেও।
রমজানের শেষ সপ্তাহে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান যাত্রীর চাপ আর টিকিটের দাম দুটোই উঠল আকাশ। সব গন্তব্যেই ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বাড়লেও চাহিদামতো টিকিট মিলছে না তিন এয়ারলাইন্সেরই। যদিও ঈদ নয়, ভাড়া বাড়তির কারণ হিসেবে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধিকেই দুষছে এয়ারলাইন্সগুলো।
তবে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে, অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে বলেই মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
ঈদযাত্রার শুরুতেই যাত্রীদের খেতে হচ্ছে ধাক্কা। বিমানের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করে নভোএয়ার আর ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। তিন প্রতিষ্ঠানেরই ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা যায় ২৮ এপ্রিল থেকেই সংকটের শুরু।
ঐদিন ঢাকা যশোর রুটে বিমানের সর্বনিম্ন টিকিট ৬ হাজার ৩শ টাকা, অন্য দুই এয়ারলাইন্সে তা ৬ হাজার ৪শ টাকা, আবার এই দামের টিকিট রয়েছে একটি দুটি করে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথে টিকিটের দাম থাকে সাড়ে তিন হাজার টাকার মধ্যেই।
যদিও এয়ারলাইন্সগুলো বলছে, ঈদকেন্দ্রিক যাত্রী হয়রানি আর বাড়তি চাপকে পুঁজি করে নয়, ভাড়া বাড়ানোর মূল কারণ জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম। অন্যদিকে ঈদের সময় একমুখী যাত্রী পরিবহন করার কারণে ভাড়া বেশি নেওয়া হয় বলে দাবি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স এর মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম।
তবে এমন দাবি মানতে নারাজ এভিয়েশন খাত বিশেষজ্ঞরা। জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করলেও টিকিট প্রতি তা তিন থেকে চারশ টাকার বেশি হতে পারে না বলেও মনে করেন তারা।
এটিএম নজরুল ইসলামের মতে, তেলের দাম যে হারে বেড়েছে তার থেকে টিকিটের দাম কিন্তু অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে। তবে তারা কিছুটা সমন্বয় করতে পারে। তবে এতো বেশি বাড়াতে পারে না।
২৮ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুণতে চেয়েও ঢাকা থেকে যশোর, বরিশাল, সিলেট, সৈয়দপুর কিংবা চট্টগ্রাম, কোন রুটেই যাওয়ার টিকিট মিলছে না কোথাও।