টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে গত শুক্রবার দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। তবে টাইগারদের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাসকিন আহমেদের ঘুমিয়ে থাকার কারণে ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করা নিয়ে। তাসকিন দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার এবং সহ-অধিনায়ক। দেশের ক্রিকেট সমর্থকরাও দায়িত্বপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের এমন কাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না। অনেকেই তার পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এতদিন চুপ থাকলেও এবার তাসকিন আহমেদ নিজেই ঘুমকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমানে তিনি লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন এবং শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন। গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘুমকাণ্ড নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে তিনি স্বীকার করেন যে তিনি একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছিলেন এবং এজন্য তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তবে অতটাও দেরি করেননি যে ম্যাচ মিস করবেন।
তিনি বলেন, “আমি সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ঘুম থেকে উঠেছিলাম এবং ৮টা ৪৩ মিনিটে লবিতে গিয়েছিলাম। আমার রাইড প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি সকাল ৯টায় হোটেল ছেড়েছি। আমি সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছি, ম্যাচ টসের ২০ মিনিট আগে সকাল ১০টায়। আমরা সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত গেয়েছিলাম এবং ম্যাচটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়েছিল।” তাসকিন আরও উল্লেখ করেন যে টিম বাস মিস করা নয় বরং টিম কম্বিনেশনের কারণে তাকে ভারতের বিপক্ষে একাদশে রাখা হয়নি। তিনি বলেন, “আমি জানি আমি সময়মতো টিম বাসে না ওঠার একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছি, কিন্তু আমি টসের আগেই স্টেডিয়ামে ছিলাম। আমার চূড়ান্ত দলে নির্বাচিত না হওয়াটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল, যা সঠিক টিম কম্বিনেশন পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।”
তাসকিন আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমরা সবাই সৎ এবং পেশাদার সাংবাদিকতা আশা করি যাতে জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারি। ভবিষ্যতে, আমি আইনি ভাবে এই ধরনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব যাতে কেউ আমার ক্রীড়াবিদ বা মানুষ হিসেবে আমার সুনাম বা অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা না করে।”
তবে সাকিব আল হাসান, মেজর টি-টোয়েন্টি লিগ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে, গণমাধ্যমের সঙ্গে তাসকিনের ঘুমকাণ্ড নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন। সাকিব বলেন, “তাসকিন আসলে মাঠে পৌঁছেছিল, টস হওয়ার ৫-১০ মিনিট আগে। স্বাভাবিকভাবে ঐ সময়ে ওকে দলে নেওয়া টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য কঠিন ছিল। এরকম পরিস্থিতিতে একজন ক্রিকেটার কোন অবস্থায় থাকে, তার জন্যও একটু কঠিন। স্বাভাবিকভাবেই তাসকিন পুরো দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এটা নিয়ে। দলের সবাই এটা খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়েছে।”