দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, মাদক, অনলাইন জুয়া, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় ‘আলোকিত লালমনিরহাট কমিটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণে আরো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি জনসচেতনতা, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় লালমনিরহাট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘আলোকিত লালমনিরহাট কমিটির চলমান কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আলোকিত লালমনিরহাট’ একটি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ। জেলার বিভিন্ন এলাকার সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই চিহ্নিত করে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতায় তা মোকাবিলার ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনার পাশাপাশি অভিযোগ দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধানে কার্যকর তদারকি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাদক ও অনলাইন বেটিং প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধে আইনি সহায়তা এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। সামাজিক সমস্যার কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেই উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে দুলু বলেন, আলোকিত লালমনিরহাট’- এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর তিন মাসও পূর্ণ হয়নি। সংগঠনের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এরই মধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ অগ্রগতি ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, হতাশা, নেতিবাচক বন্ধুত্বের পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের মাদকের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। জেলার কৃতী সন্তানদের সম্পৃক্ত করে বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধ এবং ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ -এর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’- এর কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী নভেম্বর মাসে লালমনিরহাট সফরে পরিদর্শন করবেন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এ উদ্যোগের কার্যক্রম দেখে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনুরূপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এজন্য সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ ২০০৫ সালে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর চলতি বছরের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংগঠনটির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে সংগঠনটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক, মোবাইল ক্যাসিনো ও অনলাইন জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে আসছে।
সভায় লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা বিএনপির সহযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।