নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে মোবাইল কোর্ট চলমান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সেপ্টেম্বর মাসে নিরাপদ খাদ্য আইনে মোট ১ কোটি ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়৷ একই সময়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১৩০৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয় এবং রপ্তানিযোগ্য ৩টি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করা হয়।
উক্ত সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় নিরাপদ খাদ্য আইনে ২৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১৬ লাখ টাকা জরিমানা ও ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় প্রতিষ্ঠানসমূহে যেসব অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে, তা হলো- বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরী, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ, পেস্ট কন্ট্রোল প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া প্রভৃতি।
ঢাকা মহানগর ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় নিরাপদ খাদ্য আইনে ২৮টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরী করা, পোড়াতেল ব্যবহার করা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার করা, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি এর ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরীতে কেওড়াজলের ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করা প্রভৃতি অপরাধের কারণে উক্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানসমূহে মোট ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়া, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়৷
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৭১টি অভিযানের মাধ্যমে মোট ১ কোটি টাকা ৬৫ হাজার জরিমানা করা হয় এবং ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়৷
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩০৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এছাড়া, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। উক্ত সময়ে সচেতনতামূলক টিভিসি বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি প্রচারের পাশাপাশি স্ক্রলবার্তাও প্রচার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।