দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে গোলাম কিবরিয়া বরাতসহ দলের অনেক নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির মুখে পড়েন। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া বাজার এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা, ককটেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার করা ওই মামলায় বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বরাতসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায়ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েছেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে বলা হয়েছিল, জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩১৯টি মামলা রয়েছে।
ওই তালিকায় জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাদের নামও ছিল। এসব মামলায় নেতাকর্মীদের নিম্ন ও উচ্চ আদালত এবং রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও সিরাজগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়মিত আদালতে হাজিরার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গোলাম কিবরিয়া বরাতের দাবি, এসব মামলার মধ্যে তাঁর নামে বর্তমানে ৯৬টি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ১১ বার জেলহাজতে ছিলেন বলেও জানান তিনি।
সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে গোলাম কিবরিয়া বরাত দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেওয়া এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর অনুসারীদের দাবি।
জেলা যুবদলের সভাপতি পদে প্রার্থিতার বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া বরাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে আছি। মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজপথে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে এটাই প্রত্যাশা। দায়িত্ব পেলে যুবদলকে আরও সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে কাজ করতে চাই।
তাঁর অনুসারীদের দাবি, দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া বরাতের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় সভাপতি পদে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে চূড়ান্ত কমিটি ও নেতৃত্বের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।