সবুজের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে কীভাবে একটি সফল উদ্যোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন কুড়িগ্রামের চিলমারীর কেয়া মনি। পড়াশোনা ও পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি গাছ লাগানোর শখকে তিনি রূপ দিয়েছেন একটি সফল অনলাইন ভিত্তিক নার্সারি ব্যবসায়। বর্তমানে তাঁর ছোট্ট বারান্দার শখের বাগানটি এখন পরিণত হয়েছে একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ সালের দিকে সবুজ প্রকৃতির টানে বারান্দায় গাছ লাগানো শুরু করেন কেয়া মনি। প্রথম দিকে অনলাইনে ১৮০০ টাকার গাছ কিনতে গিয়ে কিছুটা ভয় ও সংশয় কাজ করলেও গাছের সুস্থ ও সতেজ আগমন তাঁর সেই ভয় দূর করে দেয়। এরপর থেকে শুরু হয় নিয়মিত গাছ কেনা এবং পরিচর্যা। মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি নিজেই গাছ থেকে চারা উৎপাদন শুরু করেন।
শুরুর পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। চারপাশের মানুষ ও পরিবার থেকে শুরুতে খুব একটা উৎসাহ পাওয়া যায়নি; বরং অতিরিক্ত দাম দিয়ে লতাপাতা কেনাকে অনেকে ‘টাকা নষ্ট’ বলে মনে করতেন। তবে নিজের ভালোলাগা ও জেদ বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যান তিনি। ফেসবুকের বিভিন্ন বড় গাছের গ্রুপে পোস্ট দিয়ে গাছ বিক্রি শুরু করেন। সততা ও মানসম্মত গাছ সরবরাহের কারণে দ্রুতই ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেন তিনি।
বর্তমানে মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের এই শিক্ষার্থী একই সাথে একজন পেশাদার মোশন গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করছেন। ফ্রিল্যান্সিং থেকে আসা আয়ের একটি অংশ তিনি নিজের শখ ও ব্যবসাকে বড় করার কাজে লাগাচ্ছেন।
বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১৫০টিরও বেশি ভ্যারাইটির গাছ রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার অধিক। ইনডোর ও আউটডোর—সব ধরনের গাছই রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। ফেসবুকে নিজের পেজের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ পাঠিয়ে থাকেন তিনি।
নিজের এই অনুভূতি প্রকাশ করে কেয়া মনি বলেন, “সবুজের মাঝে থাকা, কোনো কোলাহল না থাকা—এ এক আলাদা শান্তি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমার ইচ্ছে আছে একটি বড় নার্সারি গড়ে তোলার, যা নানা জাতের ফুলে-গাছে ভরে থাকবে এবং মানুষ দেখতে আসবে।”
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করা দরকার। যেখানে প্রতিযোগিতা কম, এমন কোনো ইউনিক আইডিয়া নিয়ে কাজ করলে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করা সহজ হয়। এছাড়া এক জেলা বা উপজেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমগ্র বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ব্যবসা করতে চাইলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মই সবচেয়ে সেরা অপশন।”
সবুজের এই উদ্যোক্তা ভবিষ্যতে নিজের ব্যবসাকে আরও বহুদূর নিয়ে যেতে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
কেয়া মনি (উদ্যোক্তা)
শান্তিনগর, ৮ নং ওয়ার্ড, থানাহাট, চিলমারী,কুড়িগ্রাম।
মোবাইল: ০১৭৯৭৯৯২৬৮৫